পরোপকারের নগদ পুরষ্সকার


পরোপকারের নগদ পুরষ্সকার

পরোপকারের নগদ পুরষ্সকার

তিন বন্ধু । গভীর বন্ধুত্ব তাদের মাঝে। যেন তিনটি দেহ একটি প্রান।
বন্ধুদের একজন হলেন হযরত ওয়াকেদী (র.)। তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন বন্ধুত্ব জীবনের এক চকপ্রদ কাহীনি। সেই কাহীনি যেমন অপূর্ব তেমনি শিক্ষনীয়। আসুন আমরা তাঁর মুখ থেকে শুনি। আমলোর নিয়ত করি। অপ্রাণ চেষ্টা করি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন ঘটানোর। তিনি বলেন- আমার দু‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌`বন্ধু ছিল। একজন হাশেমী বংশের। অপরজন গায়েরে হাশেমী। অর্থাৎ অন্য বংশের। 

আমি একবার ভীষণ অভাবে নিপতিত হই। এমন অভাবগ্রস্থ কখনো আমি হইনি। এরই মধ্যে ঈদের দিন আগত প্রায়। সীমাহীন চিন্তিত আমি। নিজেদের জন্য কেনাকাটা না হয় নাই করলাম । কিন্তু ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা? তো বুঝবে না। বুঝবে না আব্বুর হতে টাকা পয়সা নেই, তাই এই ঈদে আমরা কিছু নেব না । ভেবেছিলাম যা, হলোও তা-ই । একদিন ঘরে এলে বিবি বলল, আমরা সবর করতে পারব, ধৈর্য ধারন করতে পারব। কিন্তু ছেলে-মেয়েদের কান্নকাটি তো বরদাশ্ত করতে পারছি না । এ অবস্থা আমার অন্তরকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। মহাল্লার অন্যান ছেলে-মেয়েদের গায়ে নতুন নতুন পোষাক, আর এদের গায়ে ছেঁড়া-ফাঁটা বস্ত্র – এটাই তো এদের র্মম যাতনা এ অশ্রু বিসর্জনের মূল কারন। সুতারাং কারো কাছ থেকে ধার-কর্জ করে হলেও কিছু এনে এদেরকে সান্ত্বনা দিন।
স্ত্রীর কথা শুনে আমার মনেও ব্যথা জাগল। চোখ দুটো হয়ে উঠলো অশ্রু সজল। একটা করুন ক্রদন বেরিয়ে এলো কন্ঠ ঠেলে। মরুভুমির শুষ্ক জমিন শুষে নিল দু’ফোটা তপ্ত অশ্রু।
সমস্ত রাত্রি অসহ্য যন্ত্রনায় কাটল আমার। একত্র হলো না দু’চোখের পাতা। অবশেষে ভোরে একখানা চিঠি লিখালাম হাশেমী বন্ধুর নিকট। হাশেমী বন্ধু চিঠি পড়ল। অতঃপর পাঠিয়ে দিল এক হাজার দিরহামের একটি মোরকৃত থলে। আমি খুশি হলাম। খুশি হলো ঘরের সবাই। এবার কেনাকাটার পালা। বাজারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ আমি। ঠিক এমন সময় একটি খোলা চিঠি এলো। তৃতীয় বন্ধুর চিঠি, যিনি হাশেমী বংশের নয়। চিঠিতে ঐরূপ আবদার আছে যেমনটি আমি করেছিলাম হাশেমী বন্ধুর নিকট। 
এবার তাহলে উপায়? আমি কি এখন বাজারে যাব? ছেলে-মেয়েদের জন্য কেনা-কাটা করব? নাকি বন্ধুর আবদার রক্ষার্থে হাজার দেরহামের থলিটি তার নিকট পাঠিয়ে দেব?
আমি কিছুক্ষন চিন্তা করলাম। অবশেষে বন্ধুর প্রয়োজনকে বড় করে দেখাই তো ইসলামের শিক্ষা । ইসলামের এ শিক্ষাটি বাস্তবায়নের এই তো সময়। এ সময় কি আর হাত ছাড়া করা যায়। দিরহাম ভর্তি থলেটি পাঠিয়ে দিলাম তৃতীয় বন্ধুর নিকট। এদিকে লজ্জায় বিবির নিকট মুখ দেখতে না পেরে দুদিন যাবত মসজিদে পড়ে রইলাম। তৃতীয় দিন ঘরে গেলাম। বিবিকে সব খুলে বললাম । বিবি বলল, আপনি কোন মন্দ কাজ করেন নি। আমার পছেন্দের কাজটিই করেছেন। আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি এ পরামর্শই দিতাম। 
বিবির কথা সবে মাত্র শেষ হলো। এমন সময় হাশেমী বন্ধু এলো। তার হাতে দিরহামের থলে। থলে ঐটিই যেটি আমি হাশেমী বন্ধুর থেকে পেয়েছিলাম এবং পরে অভাবের কথা শুনে তৃতীয় বন্ধুর নিকট পাঠিয়েছিলাম।
হাশেমী বন্ধু আমাকে বলল, বন্ধু ! বলতো আসল ঘটনা কি? আমার দেওয়া থলে তৃতীয় বন্ধুর নিকট গেল কিভাবে? আমি তাকে সব ঘটনা খুলে বলি। তারপর বললাম এবার বল, কেমন করে এ থলে পুনরায় তোমার হাতে?
সে বলল- তোমার চিঠি আমার হাতে পৌঁছার সময় এই একহাজার দিরহামের থলেটি ছাড়া আর কিছুই আমার নিকট ছিল না। তখন এর খুবই প্রয়োজন ছিল আমার। কিন্তু নিজের প্রয়োজনকে তোমার প্রয়োজনের চেয়ে বড় করে ভাবতে পারিনি আমি। তাই তোমার নিকট সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থা জানিয়ে তৃতীয় বন্ধুর নিকট চিঠি লিখলাম । কিছুক্ষন পর আমি সীমাহীন আশ্চর্য হলাম । দেখলাম তৃতীয় বন্ধু আমার নিকট ঐ থলেটিই পাঠিয়ে দিয়েছে যা আমি তোমার নিকট পাঠিয়েছিলম। ওয়াকেদী (র.) বলেন, এরপর হাশেমী বন্ধু আমাকে সেই থলেটি পুনরায় দিল। আমি সেখান থেকে একশত দিরহাম আপন স্ত্রীকে দিলাম । বাকি ৯শত দিরহাম সমানভাবে আমরা তিনবন্ধু নিলাম। 
তখন ছিল খলীফা মামুনুর রশিদের শাষন কাল । ঘটনাক্রমে এ সংবাদ খলীফার নিকট পৌঁছালে তিনি আমাদের ডাকলেন। সবকিছু বিস্তারিত শুনলেন। এতে তিনি বেশি খুশি হলেন যে, আমাদের জন্য সাত হাজার দিরহাম পুরষ্কার ঘোষনা করলেন। তিন বন্ধুর জন্য ২ হাজার করে এবং আমার স্ত্রীর জন্য এক হাজার দিরহাম 
*****

Category: 0 comments

0 comments:

Post a Comment